সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার নিয়ম, যোগ্যতা ও মাসিক চাঁদার পরিমাণ

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার নিয়ম, যোগ্যতা ও মাসিক চাঁদার পরিমাণ

আপনি কি সর্বজনীন পেনশন স্কিমে কীভাবে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে এসেছেন? যদি আপনি সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার নিয়ম, যোগ্যতা ও মাসিক চাঁদার পরিমাণ ইত্যাদি সম্পর্কে জানার জন্য এসে থাকে, তাহলে এই অনুচ্ছেদটি আপনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

এই আর্টিকেলে আপনি সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আপনি কোন স্কিমের মধ্যে অন্তভুক্ত সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারবেন।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বৃদ্ধকালে জনগণের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিরল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন যা সর্বজনীন পেনশন স্কিম নামে পরিচিত।

পূর্বে বাংলাদেশে সরকারি চাকুরীজীবীরাই শুধু এই সুবিধা ভোগ করতো কিন্তু বর্তমানে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠন করে, বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয় সাধারণ জনগণের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম (Universal Pension Scheme বা U Pension bd) চালু করেছে।

যেহেতু সরকারি/ আধা-সরকারি/ স্বায়ত্তশাসিত/ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবী বিভিন্ন প্রকারের পেনশনের ভেতরে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে, তাই সর্বজনীন পেনশন স্কিম (Universal Pension Scheme) শুধু সরকারি/ আধা-সরকারি/ স্বায়ত্তশাসিত/ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবী বাদে সকল বাংলাদেশী নাগরিক এই পেনশন স্কিমের সাথে যুক্ত হতে পারবেন।

বাংলাদেশ সরকার মোট ৬টি পেনশন স্কিম চালু করতে চেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ৪টি পেনশন স্কিম চালু করেছে। এই ৪টি স্কিমে শুধুমাত্র ১৮ বছরের বড় এবং ৫০ বছরের চেয়ে ছোট ব্যক্তিরাই আবেদন করতে পারবেন। তবে ৫০ বছরের বড় ব্যক্তিরাও বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে এই সকল স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন।

চালুকৃত ৪টি স্কিম বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের স্কিমে আবেদন করতে পারবেন। অর্থ্যাৎ যে ৪টি পেনশন স্কিম রয়েছে, সেসকল স্কিমে অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা আলাদা আলাদা। একজন বেসরকারি চাকরিজীবী যে স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন একজন উদ্যোক্তা সে স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন না।

অপরদিকে একজন প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক যে স্কিমের সাথে যুক্ত হতে পারবেন, অন্যজন সেই স্কিমে চাঁদা প্রদান করতে পারবেন না।

কে কোন স্কিমে চাঁদা প্রদান করতে পারবে আর কোন স্কিমে কত টাকা মাসিক চাঁদা প্রদান করতে হবে তা জানতে দেখুন – সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্যাকেজ গুলো।

আপনার কাছে যদি ইন্টারনেট সংযোগ থাকে এবং যেকোনো একটি কম্পিউটার ডিভাইস থাকে আপনি খুব সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে পারবেন।

অনলাইনে আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী স্কিম পছন্দ করে সর্বজনীন পেনশন একাউন্ট খোলার পর অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে যেমন – বিকাশ, নগদ, রকেট বা যে কোন ব্যাংক থেকে চাঁদা করতে পারবেন।

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার নিয়ম, যোগ্যতা ও মাসিক চাঁদার পরিমাণ

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার কিছু নিতিমালা যা অনুসরণ না করলে আপনি আবেদন ফরম বাতিল করা হবে। তাই অনলাইনের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার সময় অবশ্যই যেসকল নিয়ম অনুসরণ তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে কি কি লাগে?

সর্বজনীন পেনশন স্কিম (Universal Pension Scheme) একাউন্ট খোলার সময় সবার আগে যে প্রশ্নটা আসে তা হচ্ছে – “সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে কি কি লাগে?” আপনি যদি এই প্রশ্নের উত্তর না জেনে আবেদন করা শুরু করেন, তাহলে আপনার আবেদন সম্পূর্ণ হবেনা।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই একজন বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে। আপনি যদি প্রবাসী হয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশী নাগরিকত্বের পরচিয় স্বরূপ আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

১৮ থেকে ৫০ বছরের যেকোন নাগরিক তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রকে মূল ভিত্তি ধরে খুব সহজেই অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। তবে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট দিয়েও সর্বজনীন পেনশন স্কিমের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে পরবর্তীতে অবশ্যই তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে।

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে যা যা লাগে তা নিচে আলোচনা করা হলো-

১। জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট

একজন নাগরিকের মূল পরিচয় হচ্ছে তার জাতীয় পরিচয়পত্র। জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া আপনি দেশের কোনো অফিশিয়াল কাজ করতে পারবেন না। আপনি যদি সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। অর্থ্যাৎ, আপনি যদি দেশের একজন নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলেই কেবল সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সুবিধা নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকের কাছে সব সময় জাতীয় পরিচয়পত্র নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক পাসপোর্টের উপর ভিত্তি করে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হতে পারবে। তবে পরবর্তীতে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র না জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত রিইস্যুকৃত পাসপোর্টের ছবি প্রদান করতে হবে।

২। মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এ্যাড্রেস

অনলাইনে যেকোন ওয়েবসাইটে আপনি যখন একাউন্ট খুলবেন, তখন যে বিষয়গুলো সবার আগে দরকার হচ্ছে মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এ্যাড্রেস। আপনি মোবাইল নম্বর ছাড়া ইমেইল এড্রেস তৈরি করতে পারবেন না। আর কোনো ওয়েবসাইটে একাউন্ট করার সময় অবশ্যই ইমেইল এড্রেস লাগবেই। তাছাড়া কিছু জায়গায় মোবাইল নম্বরেরও দরকার পড়ে।

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার সময় আপনার মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এ্যাড্রেস দরকার পড়বেই। এই সকল ঠিকানায় আপনার সকল কিছু পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আপনার মাসিক চাঁদা কত টাকা এবং কত তারিখের মধ্যে আপনাকে চাঁদা জমা দিতে হবে ইত্যাদি সকল তথ্য মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

৩। ব্যাংক একাউন্ট নম্বর

যেকোনো অর্থ লেনদেন করার জন্য প্রত্যেক গ্রাহকের একটি ব্যাংক একাউন্ট থাকা আবশ্যক। যদি কোনো গ্রাহকের ব্যাংক একাউন্ট না থাকে তাহলে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন না। ব্যাংক একাউন্ট না থাকলে আপনি সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে পারবেন না।

আপনার ব্যাংক একাউন্ট যদি বাংলাদেশের যেকোন সরকার মালিকানাধীন যেকোন ব্যাংকের একাউন্ট থাকলে অনেক ভালো হয়। আপনি চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ব্যবহার করতে পারেন। আপনার যদি কোনো ব্যাংক একাউন্ট না থাকে, তাহলে আপনাকে আমরা সাজেশন করবো সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ইত্যাদি যেকোনো তফসিলিভুক্ত ব্যাংকে করে নিবেন।

৪। নমিনি

যেকোনো ব্যাংক একাউন্ট করার জন্য একজন নমিনি দরকার পড়ে। নমিনি না হলে ব্যাংক একাউন্ট করা যায় না। ব্যাংক একাউন্ট করার জন্য যা যা লাগে, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে নমিনি অবশ্যই লাগবে। সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার সময় অবশ্যই নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং গ্রাহকের সাথে তার সম্পর্ক ইত্যাদি উল্লেখ্য করতে হবে।

আপনি চাইলে একের অধিক নমিনি নাম দিতে পারবেন। যেহেতু সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি দীর্ঘ দিনের স্কিম ব্যবস্থাপনা, সেহেতু আপনি চাইলে অনেক জনকে নমিনি হিসেবে রাখতে পারেন। যদি কোনো কারণে পেনশনে থাকাকালীন কেউ ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে পেনশনারের নমিনি ৭৫ বছরের অবশিষ্ট সময়কালের জন্য মাসিক পেনশন পাবেন।

৫। আবেদন ফরম

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার সময় আপনার একটি আবেদন ফরম দরকার লাগবে। আপনি যদি অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে না চান, তাহলে আপনি এই আবেদন ফরম পূরণ করে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে জমা প্রদান করলে আপনি সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করতে পারবেন।

উপরের লিংকে ক্লিক করলে আপনি খুব সহজেই সর্বজনীন পেনশন স্কিম একাউন্ট খোলার আবেদন ফরম পেয়ে যাবেন। এই ফরমটি সতর্কভাবে পূরণ করে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকে জমা দিলে আপনি সর্বজনীন পেনশন একাউন্ট খুলতে পারবেন।

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার নিয়ম

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে হলে আপনাকে upension.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার আগে আপনি কোন সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতাভুক্ত হবে তা নির্ধারণ করতে হবে।

তারপর কোন স্কিমে অংশগ্রহণ করবেন তা নিশ্চিত করে, ব্যাংক একাউন্ট ও নমিনির তথ্য প্রদান করলে আপনি খুব সহজেই সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে সক্ষম হবেন।

তবে আবেদন করার পূর্বে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এবং একাউন্ট করার জন্য কি কি লাগে তা জেনেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করবেন। যদি কোনো কারণে তথ্য প্রদান করতে ভুল হয়, সেক্ষেত্রে সেটা সঠিক করা আরোও একটি ঝামেলা।

একজন পেনশনার একাউন্ট করার জন্য যে ধাপগুলো অনুসরণ তা ক্রমানুসারে প্রদান করা হলো-

১। পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার শুরুর ধাপে স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার থেকে যেকোন ব্রাউজারের সহযোগিতায় সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে আপনি মেন্যুবারের ডান পাশে দুইটি অপশন পাবেন। যার একটি পেনশনার লগইন এবং অপরটি পেনশনার রেজিস্ট্রেশন। যারা ইতোপূর্বে পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা পেনশনার লগইন অপশনটি ক্লিক করতে হবে লগইন করার জন্য। কিন্তু আপনি যদি নতুন রেজিস্ট্রেশন করতে চান, তাহলে পেনশনার রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করতে হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করার এই ধাপে আপনি ৩টি প্রক্রিয়া পাড় করে, পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। প্রথমে আপনাকে সকল নিয়ম কানুন মেনে চলার একটি অঙ্গীকার নামা আসবে যা আপনাকে আমি সম্মত হচ্ছি বাটনে ক্লিক করতে হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

তারপর আপনাকে এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর, ইমেইল এড্রেস এবং ক্যাপচা কোড বসিয়ে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। তবে এটা মনে রাখবেন যে আপনার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেস ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

সঠিকভাবে এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেস সঠিকভাবে পূরণ করার পর আপনাকে পরবর্তী পেইজে যাওয়ার জন্য পরবর্তী পেইজ লেখা বাটনে ক্লিক করলে আপনার দেওয়ার মোবাইল নম্বরে একটি ৬ ডিজিটের একটি OTP কোড আসবে। OTP সঠিকভাবে বসানোর পর পরবর্তী পেইজে যাওয়ার জন্য পরবর্তী পেইজ লেখা বাটনে ক্লিক করতে হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

২। পেনশনারের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার এই ধাপে পেনশনারের অর্থ্যাৎ যিনি পেনশন একাউন্ট খুলবেন তার ব্যক্তিগত তথ্য এই ধাপে প্রদান করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর, বার্ষিক আয় এবং পেশা ইত্যাদি। এই সকল তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। কেননা, এই তথ্য দিয়েই একজন ব্যক্তির পরিচিতি প্রকাশ পাবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

আপনি যখন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি প্রদান করবেন, তখন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সকল তথ্য নির্বাচন কমিশন থেকে লোড হবে। যেখানে আপনি আপনার নাম, আপনার মাতা পিতার নাম, বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা ইত্যাদি প্রদর্শিত হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তীতে আপনার বিভাগ, জেলা, ও উপজেলার নাম চিহ্নিত করে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে চলে যাবেন।

৩। পেনশনার স্কিম তথ্য প্রদান

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার এই ধাপে আপনাকে আপনার স্কিমের সকল তথ্য প্রদান করতে হবে। আপনার পেশার সাথে সম্পর্কযুক্ত রেখে আপনাকে স্কিম সিলেক্ট করে মাসিক চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

আপনার পেশার সাথে স্কিম সাদৃশ্য রেখে আপনার চাঁদার পরিমাণ এই ধাপে প্রদান করতে হবে। আপনাকে পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে আপনাকে প্রথম মাসের চাঁদা প্রদান করতে হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

কেউ যদি চায় প্রতি মাসে টাকা প্রদান করা খুব কঠিন হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে আপনি মাসিক, ত্রৈমাসিক কিংবা বার্ষিক টাকা প্রদান করতে হবে। আপনি যেভাবেই অর্থ প্রদান করেন না কেনো আপনার টাকা প্রতি মাস অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। আপনি যদি প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা প্রদান করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে ত্রৈমাসিক একবারে ৯০০০ টাকা চাঁদা দিতে হবে। অপরদিকে যদি আপনি বার্ষিক চাঁদা দিতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার ৩৬০০০ টাকা চাঁদা দিতে হবে।

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার এই ধাপে সকল তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য “পরবর্তী” বাটনএ ক্লিক করতে হবে।

৪। পেনশনারের ব্যাংক একাউন্টের তথ্য প্রদান

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার এই ধাপে আপনাকে ব্যাংকের তথ্য প্রদান করতে হবে। এই জায়গায় আপনি অন্য কারোর ব্যাংকের তথ্য বসাতে পারবেন না।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনের ব্যাংক তথ্য প্রদানের সময় আপনাকে ব্যাংক হিসাবের নাম, ব্যাংক একাউন্ট নম্বর, হিসাবের ধরণ, ব্যাংকের রাউটিং নম্বর, ব্যাংকের নাম এবং ব্যাংকের শাখার নাম উল্লেখ্য করতে হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

আপনি যদি সঠিকভাবে আপনার ব্যাংক একাউন্টের হিসাবের নাম, একাউন্ট নম্বর, হিসাবে ধরণ, রাউটিং নম্বর, ব্যাংক নাম ও শাখার নাম সঠিকভাবে উল্লেখ করে থাকেন, তাহলে আপনি পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।

ব্যাংকের একাউন্টের ধরণ আপনাকে ড্রপডাউন অপশন থেকে সিলেক্ট করতে হবে। ঠিক তেমনই ব্যাংকের নাম ও ব্যাংকের শাখার নাম আপনাকে ড্রপডাউন অপশন থেকে সিলেক্ট করতে হবে।

৫। পেনশনারের নমিনির তথ্য প্রদান

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার এই ধাপে পেনশনারকে তার নমিনির তথ্য প্রদান করতে হবে। একজন পেনশনার ইচ্ছে করলে একের অধিক নমিনি রাখতে পারবেন।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনের এই পর্যায়ে আপনাকে নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম নিবন্ধন / পাসপোর্টের যেকোনো একটি দিয়ে নমিনি নির্বাচন করা যাবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র দিলে সবচেয়ে ভালো হয়, কেননা আপনি যদি পাসপোর্ট রিইস্যু করে থাকেন তাহলে নমিনিকে পূনরায় আবার পাসপোর্টের রিইস্যু কপি জমা দিতে হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

আপনি যখন জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে আপনার নমিনিকে সিলেক্ট করবেন, তখন জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর প্রদান করে নমিনি যুক্ত করুন” বাটনে ক্লিক করে নমিনির সকল তথ্য লোড হয়ে যাবে।

নমিনির সকল তথ্য লোড হয়ে গেলে আপনি নমিনির মোবাইল নম্বর, পেনশনারের সাথে নমিনির কি সম্পর্ক তা নিশ্চিত করতে হবে। আপনি যদি একের অধিক নমিনি যুক্ত করেন, সেক্ষেত্রে কোন নমিনি কত অংশ পাবে তা দেওয়ার জন্য “নমিনির প্রাপ্যতার হার” এই ফিল্ড বসিয়ে দিতে হবে। তবে একটা কথা মনে রাখা ভালো সকল নমিনির প্রাপ্যতার হারের যোগফল ১০০ হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

যেহেতু আপনি একের অধিক নমিনি যুক্ত করতে পারবেন তাই আপনি যদি নতুন নমিনি যুক্ত করতে চান তাহলে আপনাকে “আরো নমিনি যুক্ত করুন” বাটনে ক্লিক করে নতুন একের অধিক নমিনি যুক্ত করতে পারবেন।

একের অধিক নমিনি যুক্ত করতে হলে আপনাকে “আরো নমিনি যুক্ত করুন” বাটনে ক্লিক করে জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম নিবন্ধন / পাসপোর্টের যেকোনো একটি নম্বর প্রদান করলে তার সকল তথ্য অটোমেটিকভাবে চলে আসবে।

৬। পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন আবেদন ফরম জমা প্রদান

পেনশনার একাউন্ট তৈরি করার এই ধাপে আপনি যখন নমিনির তথ্য প্রদান সম্পন্ন করবেন, তখন সকল তথ্য সঠিক কিনা তা চেক করার জন্য আপনার আবেদন ফরমটি সকল তথ্য একসাথে দেখাবে। এই ধাপে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার পূরণকৃত সকল তথ্য সঠিক।

আপনার সকল তথ্য সঠিক থাকলে আপনাকে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। যদি কোনো ভুল বা সংশোধন করার দরকার পড়লে পূর্ববর্তী বাটনে ক্লিক করে আগেই তথ্যগুলো ঠিক করে নিবেন।

আপনার সকল তথ্য ভালো ভাবে চেক করার পর যদি সকল তথ্য সঠিক থাকে তাহলে আপনার আবেদন ফরমটি জমা দেওয়ার জন্য সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর আপনি চাইলে সেই সর্বজনীন পেনশন আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

আপনি যখন সম্পূর্ণ আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করবেন, তখন উপরের দেখানো ছবির মতো একটি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড হবে। এই পিডিএফ ফাইলে একজন পেনশনারের প্রায় সকল তথ্য থাকে। আবেদনপত্রটি সাবমিট করার পূর্বে আপনি ডাউনলোড করে সকল তথ্য চেক করে নিতে পারবেন।

আপনি চাইলে এই আবেদন ফরমটি ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিতে পারেন। কেননা, কোনো না কোনো কারণে এই আবেদন ফরমটি দরকার লাগতে পারে। তাই অবশ্যই এই আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে ভুলবেন না।

৭। একাউন্ট তৈরির কনফার্মেশন এবং চাঁদা পরিশোধ

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার এই ধাপটি সর্বশেষ। আবেদন ফরমটি কনফার্ম করার জন্য আপনাকে অবশ্যই চাঁদা দিতে হবে। আপনি যদি চাঁদা না দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার একাউন্ট বাতিল হয়ে যাবে। আপনাকে উপরের প্রক্রিয়া গুলো আবার অনুসরণ করতে হবে।

একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন শেষ করার জন্য আপনাকে প্রথম কিস্তির চাঁদা জমা দিতে হবে। আপনি যদি মাসিক চাঁদা প্রদান করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে সেই অনুযায়ী আপনাকে চাঁদা প্রদান করতে হবে। আবার আপনি ত্রৈমাসিক অথবা বার্ষিক চাঁদা প্রদান করতে আগ্রহী, তাহলে আপনাকে প্রথম কিস্তিতে যে চাঁদা দেওয়া হবে।

চাঁদার পরিমাণ প্রথম কিস্তিতে যত দিবেন, ঠিক তত চাঁদা আপনাকে মাসিক, ত্রৈমাসিক এবং বার্ষিকভাবে আপনাকে স্কিম চলাকালীন চাঁদা প্রদান করতে হবে।

আপনার সর্বজনীন পেনশন আবেদন পত্রটি সাবমিট করার পর আপনাকে পেমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় লিংকে নিয়ে যাবে। যেখান থেকে আপনি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন
পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

আপনি চাইলে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে, বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমেও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কাছে সর্বজনীন পেনশনের জন্য টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। আপনি যদি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে চাঁদা প্রদান করে থাকেন, তাহলে নিচের মতো একটি ইন্টারফেজ দেখাবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

আপনি যদি নিশ্চিত থাকেন তাহলে আপনাকে কনফার্ম বাটনে ক্লিক করতে হবে। আর যদি না করতে চান তাহলে ব্যাক বাটনে ক্লিক করতে হবে। আপনার পেমেন্ট কনফার্ম করার জন্য আপনার কনফার্ম বাটনে ক্লিক করতে হবে।

আপনার পেমেন্ট কনফার্ম হলে আপনার সামনে নিচের মতো একটি ইন্টারফেজ দেখাবে। আপনি যে চাঁদা পরিশোধ করে তার একটি মেসেজ দেখাবে। যা পেমেন্ট কমপ্লিট হয়েছে তার মেসেজ দেখাবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

যখন আপনার পেমেন্ট সফল হয়েছে এরকম লেখা দেখাবে, তখন নিচের দিকে একটি ইউজার তৈরি করার জন্য একটি বাটন দেখা যাবে। যেখানে ক্লিক করে আপনি আপনার নামে একটি ইউজার অটোম্যাটিক তৈরি হয়ে যাবে এবং এখান থেকে আপনি এই ইউজারের জন্য পাসওয়ার্ড সেট করতে পারবেন।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

আপনার ইউজার এবং পাসওয়ার্ড সেট করার পর আপনি সেই ইউজার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার সর্বজনীন পেনশন একাউন্টে লগইন করতে পারবেন। লগইন করার জন্য আপনাকে শুধুমাত্র আপনার ইউজার এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হবে।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন, সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন

আপনি যখন আপনার সর্বজনীন পেনশন একাউন্টে লগইন করবেন, তখন আপনি নিচের মত একটি ইন্টারফেজ দেখাবে। এই ইন্টারফেজ হচ্ছে একজন পেনশনারের একাউন্ট ড্যাসবোর্ড। এই ড্যাসবোর্ড থেকে একজন পেনশনার তাদের স্কিম পরিবর্তন ইত্যাদি সকল কাজ করতে পারবেন।

পেনশনার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন 17

একজন পেনশনারের একাউন্টে লগইন করে আপনার একাউন্টের সকল তথ্য জানা যাবে। এখান থেকে আপনি পেনশন আইডি, স্কিমের নাম, চাঁদা দেওয়ার ধরণ, মেয়াদপূর্তির তারিখ ও সাল ইত্যাদি উল্লেখ্য আছে।

সর্বজনীন পেনশন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করুন ভিডিও দেখে

সর্বজনীন পেনশন মাসিক চাঁদার পরিমাণ

বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ৪টি সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। প্রতিটি স্কিমের জন্য আলাদা আলাদা চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচের ছকে বিভিন্ন স্কিমের ক্ষেত্রে সর্বজনীন পেনশন মাসিক চাঁদার পরিমাণ দেওয়া হলো-

স্কিমের নামমাসিক চাঁদার হার
প্রবাস (প্রবাসী বাংলাদেশি)৫,০০০ টাকা
৭,৫০০ টাকা
১০,০০০ টাকা
প্রগতি২,০০০ টাকা
৩,০০০ টাকা
৫,০০০ টাকা
সুরক্ষা১,০০০ টাকা
২,০০০ টাকা
৩,০০০ টাকা
৫,০০০ টাকা
সমতা১,০০০ টাকা
(চাঁদাদাতা ৫০০ টাকা + সরকারি অংশ ৫০০ টাকা)

শেষকথা

সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করতে হলে অনেক গুলো প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন করার জন্য পেনশনার একাউন্টের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর উপরে দেওয়া সকল ধাপ অনুসরণ করলে আপনি খুব সহজেই সর্বজনীন পেনশন অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।

Leave a Comment