সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম খুব সহজেই খুলে ফেলুন সেভিংস একাউন্ট

সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়মগুলো সেভিং একাউন্ট খোলার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আপনার সারা জীবনের সঞ্চয় যদি ব্যাংকে জমা রাখতে চান যা আপনার শেষ বয়সের সম্বল তা অবশ্যই সঠিকভাবে ব্যাংক একাউন্ট খোলার পর নিশ্চিত থাকা উচিত।

আজকের এই অনুচ্ছেদে আমরা সোনালী ব্যাংকে সেভিং বা সঞ্চয়ী একাউন্ট কীভাবে সঠিকভাবে খুলবেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার সকল নিয়মকানুন ও দরকারি কাগজপত্র

সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং এই ব্যাংকটি বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম বাণিজ্যিক ব্যাংক। এছাড়াও এই ব্যাংকটি অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে।

সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার পছন্দের অন্যান্য ব্যাংক একাউন্ট করার তালিকায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। কেননা, অন্যান্য ব্যাংকের মতো সোনালী ব্যাংক যখন তখন দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ভয় নেই বললেই চলে।

সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার আগে যা করণীয়

বাংলাদেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে আমাদেরকে নিশ্চিত হতে হবে আমরা কোন একাউন্ট খুলতে চাচ্ছি। এটা না নিশ্চিত হয়ে জানতে পারলে আমাদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য ব্যাংকে যাওয়া উচিত না।

এখন পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকে দুই ধরণের একাউন্ট খোলা যায়। কোনো গ্রাহক যদি সোনালী ব্যাংকে লোন গ্রহণ করতে আসে, তাহলে তাকে সোনালী ব্যাংকের চলতি হিসেবে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। আর যদি সঞ্চয়ের ইচ্ছায় ব্যাংক একাউন্ট খুলতে চায়, তাহলে সেভিং একাউন্ট চালু করতে হবে।

১। সেভিংস একাউন্টঃ

সেভিং একাউন্ট অনেক সময় সোনালী ব্যাংক সঞ্চয়ী হিসাব বলে থাকে। সেভিং একাউন্ট দ্বারা কোনো গ্রাহক তাদের আমানত নির্দিষ্ট মেয়াদে সঞ্চয় করে থাকে।

২। কারেন্ট একাউন্টঃ

কারেন্ট বা চলমান হিসাব বা সোনালী ব্যাংক চলতি হিসাব হচ্ছে যারা নিয়োমিত লেনদেন করে, শুধু তারাই কারেন্ট একাউন্ট চালু করতে পারবেন। আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে চলতি একাউন্ট খুলতে হবে। উপরের আলোচনায় আমরা জানলাম কে কোন প্রকারের একাউন্ট খুলবেন।

সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার আগে আপনাকে জানতে হবে, আপনার কি কি কাগজ দরকার। এসব বিষয়ে না জ্ঞান থাকলে আপনি ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় বিভিন্ন ঝামেলায় পড়বেন।

নিচে সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে তা বিস্তারিত আলোচনা করো হলো-

১। ব্যক্তিগত সোনালী ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / জন্ম নিবন্ধন কার্ড ইত্যাদি। ব্যক্তিগত একাউন্ট তৈরি করার জন্য এদের মধ্যে যেকোনো একটি সনদ লাগবেই।

২। ব্যবসায়ের ট্রেড লাইসেন্স এবং টিন সার্টিফিকেট। ( ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে একাউন্ট খুলতে চাইলে)।

৩। যে ব্যক্তির জন্য সোনালী ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করবেন, ঐ ব্যক্তির ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

৪। যে ব্যক্তির নামে ব্যাংক একাউন্ট করছেন তার অবর্তমানে একজন নমিনি নাম দিতে হবে। নমিনির ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

৫। নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / জন্ম নিবন্ধন কার্ড ইত্যাদি এদের মধ্যে যেকোনো একটি সনদ লাগবেই।

৬। যে ব্যক্তি একাউন্ট তৈরি করবেন সে ব্যক্তিকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। অন্যথায় আপনি সোনালী ব্যাংকে ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন না।

৭। সোনালী ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট খোলার সময় আপনাকে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে হবে। এই টাকা আপনার একাউন্টে যোগ করা হবে।

৮। কারেন্ট বা চলতি হিসাব চালু করার সময় আপনাকে ১৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা  জমা দিতে হবে। এই টাকা আপনার একাউন্টে জমা হবে। তবে শাখা ভেদে ৫০০০ টাকার কম জমা করলেও হয়। 

উপরে উল্লেখিত কাগজপত্র সেভিং একাউন্ট ও কারেন্ট একাউন্ট এই দুই ক্ষেত্রে অবশ্যই সংযোজিত করতে হবে।

সোনালী ব্যাংকে সেভিং / সঞ্চয়ী একাউন্ট খোলার নিয়মাবলি

সোনালী ব্যাংক সেভিং একাউন্ট চালু করতে আপনাকে নিচের কাগজপত্র যুক্ত করতে হবে। যেমনঃ

যার নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন তার-

  • জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / জন্ম নিবন্ধন কার্ড ইত্যাদি।
  • ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • একজন নমিনির নাম।
  • ব্যাংক থেকে ডাউনলোডকৃত ফরম।

নমিনির কাগজপত্র-

  • জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / জন্ম নিবন্ধন কার্ড ইত্যাদি।
  • ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

উপরের সকল কাজগপত্র নিয়ে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় চলে যাবেন। তবে, আপনার এলাকায় অনেক শাখা থাকলে আপনি যে শাখায় একাউন্ট করতে চান, সে শাখায় চলে যাবেন। সকল কাগজপত্র ও নিয়মাবলি মেনে চললে আপনি সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন।

সেভিং একাউন্ট খোলার সুবিধা

সোনালী ব্যাংকে সেভিং একাউন্ট তৈরি করার কিছু সুবিধা আছে। সেই সুবিধা গুলো নিচে লিস্ট আকারে প্রদান করা হলো।

  • যেকোন সেভিং একাউন্ট তৈরি করার সময় ব্যক্তিটি বিনামূল্যে একটি চেক বই পেয়ে যাবেন।
  • সেভিং একাউন্ট আপনি সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা জমা রাখতে পারবেন।
  • আপনি সেভিং একাউন্ট দিয়ে যেকোন দেশ থেকে রেমিটেন্স নিয়ে আসতে পারবেন।
  • খুব সহজেই এক শাখা থেকে সোনালী ব্যাংকের অন্য শাখায় টাকা স্থানান্তর করতে পারবেন।

সেভিং একাউন্ট তৈরি করলে আরোও অনেক সুবিধা পাবেন যা আপনি অন্যান্য ব্যাংকে নাও পেতে পারেন।

সোনালী ব্যাংকের ইন্টারেস্ট রেট

সোনালী ব্যাংকের ইন্টারেস্ট রেট সময় সময় পরিবর্তন হয়। আপনি নিচের লিংকে সোনালী ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে চেক করে নিতে পারবেন।

সোনালী ব্যাংকে চলতি / কারেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়মাবলি

সোনালী ব্যাংক চলতি / কারেন্ট একাউন্ট চালু করতে আপনাকে নিচের কাগজপত্র যুক্ত করতে হবে। যেমনঃ

যার নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন তার-

  • জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / জন্ম নিবন্ধন কার্ড ইত্যাদি।
  • ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • একজন নমিনির নাম।
  • ব্যাংক থেকে ডাউনলোডকৃত ফরম।

নমিনির কাগজপত্র-

  • জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / জন্ম নিবন্ধন কার্ড ইত্যাদি।
  • ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

উপরের সকল কাজগপত্র নিয়ে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় চলে যাবেন। তবে, আপনার এলাকায় অনেক শাখা থাকলে আপনি যে শাখায় একাউন্ট করতে চান, সে শাখায় চলে যাবেন। সকল কাগজপত্র ও নিয়মাবলি মেনে চললে আপনি সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন।

2 thoughts on “সোনালী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম খুব সহজেই খুলে ফেলুন সেভিংস একাউন্ট”

  1. আমার একটি সঞ্চয়ী হিসাব আছে। কিন্তু আমি জানিনা হিসাবটি চালু আছে কি না।এটা জানবো কিভাবে।

    Reply
  2. আমি একটি প্রবাসী একাউন্ট খোলতে চাচ্ছি কিন্তুু হচ্ছেনা

    Reply

Leave a Comment