সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন কিভাবে নিবেন ও বিস্তারিত তথ্য

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন কিভাবে নিবেন

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন সম্পর্কে অনেকেরই অজানা। মূলত সোনালী ব্যাংকে যেসমস্ত লোন রয়েছে তার মধ্যে স্যালারি লোন অনেক জনপ্রিয়।

এই লোনের জনপ্রিয়তার কারণ হলো প্রায় সকল চাকরিজীবী সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের বেতন পেয়ে থাকে। তাই সোনালী ব্যাংক থেকে তারা খুব সহজেই ব্যাংকে লোন নিতে পারেন।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন নেওয়ার জন্য উপযুক্ত কারণ দেখালে সকল চাকুরীজীবীকে স্যালারি লোন দিবেন। এই ব্যাংকে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহীতার মূল্যবান কিছু জমা রাখে। কিন্তু সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন দিয়ে থাকেন, কেননা চাকরিজীবীদেরকে স্যালারি লোন দিলে, প্রতিমাসের টাকা কেটে নেয়। এই জন্য সোনালী ব্যাংকের অন্যান্য লোনের চেয়ে স্যালারি লোন একটি জনপ্রিয় লোন।

আপনি যদি একজন চাকরিজীবী হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরণের ব্যবসা করতে চান, তাহলে আপনি সোনালী ব্যাংকে স্যালারি লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই লোনের মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসাকে অনেক চাঙ্গা করে নিতে পারবেন।

এই অনুচ্ছেদে আমরা সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আপনি যদি এই লোন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে নিচের আর্টকেলটি ভালো করে অনুসরণ করতে পারেন।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন পাওয়ার সকল নিয়ম

আপনি যদি একজন সোনালী ব্যাংকের একজন গ্রাহক হয়ে থাকেন, তাহলে সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন নেওয়ার জন্য এই অনুচ্ছেদটি আপনাকে অবশ্যই পড়তে হবে।

সোনালী ব্যাংকের স্যালারি লোন আবেদনের পূর্বে যদি আমরা না জানি কারা কারা এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সবাই এই লোন পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন পাওয়ার পর কি করবেন সেটাও কিন্তু ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত করা হয়েছে। যদি আপনি এই লোন গ্রহণ করে ব্যাংকের দেখানো কাজে না খরচ করেন, তাহলে আপনি এই লোন না ভাবাই ভালো।

স্যালারি লোন ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা

শুরুতেই আমি বলেছিলাম, এই লোন সবার জন্য নয়। যারা সোনালী ব্যাংকের একজন স্যালারি নেওয়ার জন্য ব্যাংকে একাউন্ট করেছেন শুধু তারাই এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আপনি যদি একজন কোনো বেসরকারী / স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা / কর্পোরেশনের কর্মকর্তা / কর্মচারী এবং সরকারি / বেসরকারি ( এমপিওভুক্ত কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক / মাধ্যমিক বিদ্যালয়) শিক্ষকবৃন্দ এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশের সকল স্থায়ী চাকরিজীবী ব্যক্তিগণ এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া শুধু স্থায়ী চাকরিজীবী হলেই হবে না। যারা শুধুমাত্র এলপিআরে যাবার তারিখ পূর্ণ হতে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিতে স্থায়ী থাকতে হবে।

আপনি যদি উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে যেকোনো একজন হয়ে থাকেন, তাহলেই কেবল আপনি এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্যথায়, এই অনুচ্ছেদটি আপনার জন্য নয়। কিন্তু আপনি যদি জানতে চান, তাহলে এই অনুচ্ছেদটি পড়তে পারেন।

স্যালারি লোন কোথায় কোথায় খরচ করতে পারবেন?

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন পাওয়ার পর আপনি যেকোনো কাজের জন্য আপনি এই টাকা খরচ করতে পারবেন না। মূলত, ব্যাংক এই খাতগুলো নির্ধারণ করে দিয়েছে। এই টাকা মূলত বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার কাজে এই অর্থ খরচ করতে পারবেন। নিচে এই সকল খাতের কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে।

  • কম্পিউটার ও প্রিন্টার এন্ড স্ক্যানার ক্রয়।
  • সাইকেল এবং মোটরসাইকেল ক্রয়।
  • সবজি বাগান করার কাজে।
  • নার্সারী তৈরিতে।
  • হাঁস-মুরগী পালনে।
  • গাভী পালনে।
  • গরুর খামার এবং গাভী পালন।
  • মৎস্য চাষ করার কাজে।
  • কৃষি পণ্যের বিপণন ইত্যাদি।

উপরের খাতের যেকোনো একটিতে আপনি স্যালারি লোন খরচ করতে পারবেন। আপনি যদি এই খাত বাদে অন্য খাতে আপনার সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন খরচ করেন, ব্যাংক জানতে পারলে আপনার জেল ও জরিমানা হতে পারে।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোনের সীমা

সোনালী ব্যাংকে স্যালারি লোনের জন্য আবেদন করার পূর্বেই আপনার জানা উচিত, আপনি সর্বোচ্চ কত টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে কত টাকা নিতে পারবেন।

প্রতিটি ব্যাংক যেকোনো লোনের নেওয়ার একটা সীমা থাকে। আপনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোন কোনো ব্যাংকে নিতে পারবেন না।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন এর একটা সর্বোচ্চ সীমা এবং সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারন করা হয়েছে। একজন চাকরিজীবী সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন।

তাছাড়া, স্যালারি লোন নেওয়ার সময় আপনার মার্জিন রেট নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সাধারণত মার্জিন রেট নির্ধারন হয় আপনার ঋণের ২০ শতাংশ।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন এর সুদের হার কত?

যেকোনো ব্যাংকে যখন কোনো গ্রাহক লোন নিতে আসবেন, তখন ব্যাংক আপনার লোনের উপর কত শতাংশ সুদ নিবেন তার উপর নজর দেওয়া খুব জরুরি। কেননা, আপনার সুদের হার যদি অনেক বেশি হয়, সেক্ষেত্রে লোন না নেওয়াই ভাল হবে।

তাই আপনার জানা উচিত সোনালী ব্যাংকে স্যালারি লোন এর উপর কত শতাংশ চার্জ করবে। সাধারণত যেকোনো পার্সোনাল লোনের জন্য সুদের হার ১২ শতাংশ কিন্তু এই পরিবর্তনযোগ্য।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোনের মেয়াদ ও কিস্তির পরিমাণ?

লোনের কথা উঠলেই যে বিষয়টি মাথায় আসে সেটা হলো লোনের মেয়াদ ও কিস্তির পরিমাণ। কেননা, যদি আপনার মাসিক ইনকামের থেকে আপনার ঋণের মাসিক কিস্তির পরিমাণ বেশি হয়। তাহলে আপনার ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই যেকোন লোন নেওয়ার আগে তার মেয়াদ ও কিস্তি সম্পর্কে জানা উচিত।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন এর সর্বোচ্চ মেয়াদ ৩৬ মাস / ৩ বছর কিন্তু সর্বনিম্ন সময় ১২ মাস / ১ বছর। আপনার মাসিক কিস্তির পরিমাণ আপনার মাসের পরিমাণ এবং টাকার পরিমানের উপর কিস্তির পরিমাণ নির্ধারন করা হয়েছে।

যদি আপনার লোনের মেয়াদ এবং মাসিক কিস্তির পরিমাণ পছন্দ হয়, তাহলেই কেবল লোনের জন্য সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে হবে।

সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন কিভাবে নিবেন?

সোনালী ব্যাংকে স্যালারি লোন পাওয়ার জন্য আপনাকে উপরে উল্লেখ্য থাকলে তাহলেই কেবল সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোনের জন্য নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যদি আপনার সকল শর্ত পূর্ণ হয়, তবেই কেবল এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্যথায় এই লোনের জন্য আবেদন করা বৃথা।

আপনি যোগ্য কি যোগ্য না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আপনি নিকটস্থ ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে পারবেন। নিচের দেওয়া বাটনে ক্লিক করলে আপনি সোনালী ব্যাংক লোনের নেওয়ার জন্য ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সাথে কথা বলে নিবেন।

উপরে লিংকে সকল ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সাথে কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় মোবাইল নাম্বার পেয়ে যাবেন।

1 thought on “সোনালী ব্যাংক স্যালারি লোন কিভাবে নিবেন ও বিস্তারিত তথ্য”

Leave a Comment