প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন (Probashi Kallyan Bank Loan) নেওয়ার নিয়ম, সুদের হার, সুবিধা

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন (Probashi Kallyan Bank Loan) নেওয়ার নিয়ম, সুদের হার, সুবিধা

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন (Probashi Kallyan Bank Loan) নেওয়ার নিয়ম, সুদের হার, সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে এসেছেন? যদি আপনি এই সকল বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের ব্যাংক বিডি ইনফো’তে এসে থাকেন, তাহলে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই আর্টিকেলে আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন সম্পর্কে যা যা একজন গ্রাহক হিসেবে জানা দরকার, সেই সকল বিষয় আমরা এই অনুচ্ছেদে বর্ণনা করবো।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক। এই ব্যাংক মূলত বাংলাদেশের বিদেশে অবস্থিত প্রবাসীদের জন্য তৈরি একটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম, সুদের হার, সুবিধা । Probashi Kallyan Bank Loan

বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের প্রবাসীদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সেবা প্রদানের জন্য ২০১০ সালে এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই ব্যাংক বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসে অবস্থিত বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে বিভিন্ন রকমের সেবা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক মানুষ জীবিকার উদ্দেশ্যে বিদেশে ভ্রমণ করে থাকে। কিন্তু কোনো কারণে যদি অর্থ বহন করার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হতে ঋণ নিতে পারবেন। তাই এই অনুচ্ছেদে আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হতে কীভাবে লোন নিতে পারবেন, সেই লোনের সুদের হার কত এবং লোন নেওয়ার সুবিধা কি কি এই সকল বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন কত প্রকার ও কি কি?

প্রবাসে অবস্থিত বা প্রবাসে কোনো কাজ বা চাকরি করার উদ্দেশ্যে কোন ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন একটি বিশেষ ব্যাংকে যে লোন বা ঋণ প্রদান করে থাকে সেই ব্যাংক হচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (Probashi Kallyan Bank)। এই ব্যাংক সর্বমোট ৪টি ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। নিচে প্রতিটি লোন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

১। অভিবাসন ঋণ

বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বিদেশে জীবিকা নির্বাহের জন্য যেতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক তাদেকে সহযোগিতা করার জন্য অভিবাসন ঋণের ব্যবস্থা করেছেন। এই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশী নাগরিককে প্রবাসে অবস্থান করে কোন চাকরি করতে হবে অন্যথায় এই ঋণ দেওয়া হবে না।

এই অভিবাসন ঋণ মূলত নতুন ভিসা, বিদেশে যাওয়ার খরচ হিসেবে আপনি ব্যয় করতে পারবেন। কিন্তু এই ঋণের টাকা আপনি অন্য কোন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না।

ঋণ সীমা ও মেয়াদকাল

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন (Probashi Kallyan Bank Loan) বা ঋণের আওতায় কোনো ব্যক্তি ঋণ নিতে চাইলে, সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ হিসেবে গ্রহন করতে পারবেন এবং রি-এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রেও ৩ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে গ্রহন করতে পারবেন।

আপনি যখন নতুন ভিসার করার জন্য যে ঋণ পাবেন, তার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২ বছর। আপনাকে ২ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আবার আপনি যদি রি-এন্ট্রি ভিসার জন্য ঋণ / লোন করে থাকেন, তাহলে আপনাকে ২ বছরের মধ্যে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

আপনি ঋণ গ্রহন করার পর পরিশোধ তথ্য কিস্তি দেওয়া শুরু করতে হবে ২ মাস পর। আপনার ঋণ গ্রহণের ২ মাস পর থেকে আপনাকে মাসিক কিস্তি আকারে টাকা পরিশোধ করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন (Probashi Kallyan Bank Loan) এর অভিভাসন ঋণের ক্ষেত্রে আপনি যখন ঋণ গ্রহন করবেন, সেই ঋণের সুদের হার ৯% সরলসুদে।

অভিবাসন ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন (Probashi Kallyan Bank Loan) এর অভিবাসন ঋণ গ্রহন করতে হলে আপনাকে তথা ঋণ আবেদনকারীর ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা ছবি, ভোটার আইডি কার্ড / জাতীয় পরিচয়পত্র, বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানাসহ পৌরসভা / ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

অভিবাসন ঋণ গ্রহন করার জন্য আবেদনকারীকে ২ জন নমিনির ১ কপি করে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার আইডি কার্ড / জাতীয় পরিচয়পত্র বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানাসহ পৌরসভা / ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

আবেদনকারীর পাসপোর্ট, ভিসার কপি ও ম্যানপাওয়ার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি এবং লেবার কন্ট্রাক্ট পেপার থাকলে অনেক ভালো হয়। তবে এটা বাধ্যতামূলক না।

তাছাড়া ২জন নমিনির ১ জনের স্বাক্ষরকৃত ৩টি ব্যাংকের চেকের পাতা জমা দিতে হবে। এটা বলে রাখা ভালো যে নমিনিকে অবশ্যই আপনার অবর্তমানে টাকা দেওয়া ক্ষমতা থাকতে হবে।

২। পূনর্বাসন ঋণ

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন (Probashi Kallyan Bank Loan) এর পূনর্বাসন ঋণ হচ্ছে বাংলাদেশী কোন নাগরিক চাকরীর উদ্দেশ্যে কোন দেশে যাওয়ার পর কোন কারণে স্বদেশে ফিরে এসে স্বাবলম্বি হওয়ার ইচ্ছায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করে থাকে তাহলে সেই ঋণকে পূনর্বাসন ঋণ বলে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ঐ ব্যক্তিকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য বিভিন্ন রকমের প্রকল্প হাতে নেওয়ার জন্য সহজ শর্তে জামানত ব্যাতিরেকে পূনর্বাসন ঋণ প্রদান করে থাকে।

পূনর্বাসন ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

পূনর্বাসন ঋণ নেওয়ার জন্য কি কি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সেটা হয়তো অনেকেই জানেনা। এই ঋণ নেওয়ার জন্য যেসকল দরকারি কাগজপত্র লাগবে তা নিচে বর্ণনা করা হলো-

আপনাকে ৩ কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি প্রদান করতে হবে। আপনার পাশাপাশি যে আপনার এই ঋণের নমিনি তারও সদ্য তোলা ২ কপি ছবি লাগবে।

পূনর্বাসন ঋণ নেওয়ার জন্য আপনাকে এবং আপনার নমিনির পাসপোর্ট / জাতীয় পরিচয়পত্র / ভোটার আইডি কার্ড ইত্যাদি ফটোকপি লাগবে।

আপনার ও আপনার জামিনদারের ঠিকানা ভেরিফিকেশনের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণের জন্য আপনার এলাকা / পৌরসভা / ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র লাগবে।

যদি কেউ ব্যবসার বা উদ্যোক্তা হতে চান, সেক্ষেত্রে কি প্রকল্প করতে চান সেই বিষয়ে ট্রেড লাইসেন্স রেজিস্ট্রার করলে তার কপি জমা দিতে হবে। তাছাড়া প্রকল্পের বিবরণী তথা সর্বনিম্ন ২ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসার সংক্রান্ত বিবরণী জমা দিতে হবে।

আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোন সংস্থার কাছে ঋণ গ্রহন করে থাকেন, সেক্ষেত্রে তার ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে।

এগুলো থাকার সাথে সাথে একজন ঋণ গ্রহীতা কি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সে বিষয়ে অবশ্যই অবগত করতে হবে। তাছাড়া আপনি বিদেশ থেকে কেনো এবং কি কারণে দেশে প্রত্যাগমন করছেন সে বিষয়ে যাবতীয় কাগজের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

ঋণ সীমা ও মেয়াদকাল

পূনর্বাসন ঋণের সীমা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা। কোনো নাগরিক এই টাকার বাইরে লোন গ্রহন করতে পারবেন না। এই ঋণের জন্য উক্ত গ্রাহককে জামানত রাখতে হবে। তবে জামানতবিহীন এই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৩ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশের যেকোন প্রবাসী পূনর্বাসন ঋণের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা বিনা জামানতে গ্রহন করতে পারবেন।

যদি কোনো গ্রাহক ৩ লক্ষ টাকার উপরে যেমন- ৩ লক্ষের উপরে কিন্তু ৫ লক্ষ টাকার নিচে ঋণ গ্রহন করতে চান, সেক্ষেত্রে তাকে সহজামানত গ্রহন করতে হবে।

পূনর্বাসন ঋণের ক্ষেত্রে যদি কোন গ্রাহক ৫ লক্ষ টাকার উপরে কিন্ত ৫০ লক্ষ টাকার নিচে ঋণ গ্রহন করতে চান, তবে সেক্ষেত্রে উক্ত ঋণের বিপরীতে গ্রহীতার স্থাবর সম্পত্তির রেজিস্ট্র মর্টগেজমূলে ব্যাংকের নিকট জমা রাখতে হবে।

পূনর্বাসন ঋণের ক্ষেত্রে আপনি কোন প্রকারে এই ঋণ পরিশোধ করা শুরু করবেন, সেটা নির্ভর করবে ঋণের ধরণের উপর। কিন্তু এই ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদকাল ১০ বছর। যদি কোন ব্যক্তি এই ১০ বছরের মধ্যে অর্থ দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জমাকৃত সম্পত্তি ব্যাংক নিলামে তুলে ঋণ পরিশোধ করে থাকে।

এই ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহক সরলসুদে ৯% হারে ব্যাংককে মুনাফা প্রদান করে থাকে।

৩। বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন (Probashi Kallyan Bank Loan) এর বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ হচ্ছে প্রবাসে অবস্থিত কোন প্রবাসীর উপর নির্ভরশীল যেকোন ব্যক্তি যেমন তার পিতা, মাতা, স্বামী স্ত্রী, সন্তান, ভাই, বোন ইত্যাদি যেকোন কেউ বিদেশ থেকে প্রত্যাগমন করলে উক্ত পরিবারের সদস্যকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ নামক ঋণের প্রকরণে বিবেচিত হয়ে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এই ধরণের ঋণ ব্যবস্থাপনায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক জামানতবিহীন বা জামানত নিয়ে ঋণ প্রদান করে থাকে। যদি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি হয়, সেক্ষেত্রে জামানত লাগবে কিন্তু ঋণের পরিমাণ কম হলে সেক্ষেত্রে জামানত লাগবে না।

বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

প্রতিটি ব্যাংকের ঋণ গ্রহন করার জন্য কিছু দরকারি কাগজপত্র এবং কিছু যোগ্যতা লাগে। সেই কারণে বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ গ্রহন করতে চাইলে আপনাকে নিচের কাগজপত্র অবশ্যই জমা দিতে হবে।

প্রতিটি ঋণ গ্রহনের ক্ষেত্রে যে কাগজপত্র লাগবেই তা হচ্ছে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র / ভোটার আইডি কার্ড / পাসপোর্টের ফটোকপি ইত্যাদি। তবে এই সকল কাগজপত্র মূলত গ্রাহক এবং নমিনি ২জনেরই দরকার।

দেশের বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন কার্ড / জাতীয় পরিচয়পত্র / ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি লাগবেই।

গ্রাহক ও নমিনিকে চেনার জন্য তার সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। তবে গ্রাহকের লাগবে ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং নমিনির লাগবে ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

আপনি যে প্রকল্প শুরু করতে চান, সে প্রকল্পের সকল বিবরণী যেমন প্রকল্প কোথায় অবস্থিত, নিজের জমিতে তৈরি করা নাকি অন্যের জমিতে করা এই বিষয়ে অবশ্যই ব্যাংককে জানাতে হবে। প্রকল্পটির স্থান ভাড়া করে থাকলে, সে বিষয়ে একটি Letter of Disclaimer নিতে হবে।

প্রকল্পটি জন্য অন্য কোন ব্যাংক / এনজিও / সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে থাকে সেই বিষয়ে বিবরণী প্রদান করতে হবে। ঋণ গ্রহীতাকে অবশ্যই নিজ নামের ৩ নিজস্ব স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেকের হিসার বিবরণী।

ঋণের সীমা

আপনি যদি বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের সবার আগে জানা উচিত কত বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। আমরা যদি এমনভাবে ঋণ গ্রহন করি যে আমাদের ঋণ শোধ করতেই বারোটা বেজে যায়, সেক্ষেত্রে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

আপনি জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহন করতে পারবেন। যদি ৩ লক্ষ টাকার উপরে বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে জামানত হিসেবে কিছু ব্যাংকের কাছে জমা রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ লক্ষ টাকা।

সুতরাং, আপনি যদি ৩ লক্ষের উপরে কিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহন করলে আপনাকে সহজমানত গ্রহন করতে হবে। আবার যদি বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণের পরিমাণ যদি ৫ লক্ষ টাকার উপরে এবং ৫০ লক্ষ টাকার নিচে ঋণ গ্রহন করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে জামানত হিসেবে ঋণের বিপরীতে মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি দলিলাদি জমা রাখতে হবে।

৪। বিশেষ পুনর্বাসন ঋণ

বিশেষ পুনর্বাসন ঋণ চালু করা হয়েছিলো মূলত করোনা ভাইরাসের সময় ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে। যেহেতু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ নেই বললেই চলে তাই এই ভাইরাসের কারণে যারা বিশেষ পুনর্বাসন ঋণ ঋণ গ্রহন করেছেন, তাদের মেয়াদ চলবে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক | Probashi Kallyan Bank Loan, লোনের সীমা, মেয়াদ ও সুদের হার

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে লোন নেওয়ার পূর্বে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত এই ব্যাংক লোনের বিপরীতে কত শতাংশ সুদ নিয়ে থাকে। উপরের আলোচনায় আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কত প্রকারের লোন প্রদান করে থাকে, সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি।

লোনের নামমেয়াদসুদের হারলোনের সীমা
অভিবাসন ঋণনতুন ভিসা করার ক্ষেত্রে ৩ বছর৯% সরলসুদ৩ লক্ষ টাকা
রি-এন্ট্রি ভিসা করার ক্ষেত্রে ২ বছর৯% সরলসুদ৩ লক্ষ টাকা
পূনর্বাসন ঋণসর্বোচ্চ ১০ বছর৯% সরলসুদ৩ লক্ষ টাকা জামানত বিহীন
৩-৫ লক্ষ টাকা জামানত লাগবে
৫-৫০ লক্ষ টাকা জামানত হিসেবে সম্পত্তির কাগজপত্র
বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণসর্বোচ্চ ১০ বছর৯% সরলসুদ৩ লক্ষ টাকা জামানত বিহীন
৩-৫ লক্ষ টাকা জামানত লাগবে
৫-৫০ লক্ষ টাকা জামানত হিসেবে সম্পত্তির কাগজপত্র

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন / Probashi Kallyan Bank Loan নেওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রতিটি লোনের স্কিম সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি যদি প্রতিটি স্কিম সম্পর্কে ধারণা না রাখেন, তাহলে তিনি বিভিন্ন সমস্যা পড়বেন। তাই লোনের আবেদনের ক্ষেত্রে পূর্বে আলোচিত সকল লোন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন / Probashi Kallyan Bank Loan নেওয়ার জন্য আপনাকে নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের যেকোন শাখায় গিয়ে আপনি লোন নেওয়ার জন্য আবেদন ফরম সংগ্রহ করবেন। তারপর আপনার সকল তথ্য ভালো করে পূরণ করে উক্ত ফরমটি ব্যাংকে কার্যরত কর্মকর্তা দিলে আপনি খুব সহজেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন / Probashi Kallyan Bank Loan এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা নেই। বাংলাদেশের কোন কোন স্থানে ব্যাংকের শাখা রয়েছে, সে সম্পর্কে নিচের লিংকে জানতে পারবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন সুবিধা

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বর্তমানে টাকার অভাবে বিদেশে যেতে পারেন এমন ব্যক্তিদেরকে সরলসুদে লোন প্রদান করে থাকে। ফলে তারা অনেক উপকৃত হয়। একটা সময় ছিলো যখন প্রবাসী ব্যক্তিদের প্রবাসে থাকার কারণে কোন প্রকারের সুযোগ সুবিধা পান না। কিন্ত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন দেওয়ার কারণে অনেক উপকৃত হচ্ছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বিদেশে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করে থাকেন। ফলে প্রবাসে যাওয়ার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সাহায্য পেয়ে থাকে।

যদি কোনো কারণে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এসে এখানে যদি কোনো প্রকল্প বা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন / Probashi Kallyan Bank অনেক সাহায্য করে থাকেন।

শেষকথা

পরিশেষে একটা কথাই বলা যেতে পারে যে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন / Probashi Kallyan Bank Loan নেওয়ার জন্য যা কিছু জানার দরকার এবং কীভাবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন পাবো সেই বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছি। যদি কোন জানার থাকে, তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

Leave a Comment